অকারণে ওজন কমতে থাকা রোগীদের রুটিন রক্ত পরীক্ষার ফলাফলে সময়ের সঙ্গে যে পরিবর্তন ঘটে, তা ক্যানসারের ঝুঁকি শনাক্ত করতে সহায়ক হতে পারে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে এসব ফলাফল মূল্যায়নের সময় রোগীর বয়স ও লিঙ্গও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
পিএলওএস মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যাখ্যাতীত ওজন কমার ক্ষেত্রে রুটিন রক্ত পরীক্ষার ফলাফলের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করলে প্রাথমিক চিকিৎসা পর্যায়েই ক্যানসারের ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ব্রায়ান নিকলসন বলেন, বয়স ও লিঙ্গের তথ্য যুক্ত করে রক্ত পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে ক্যানসার শনাক্তকরণের নির্ভুলতা বাড়ানো সম্ভব। এ ধরনের হিসাব পরীক্ষাগার পর্যায়েই করা যেতে পারে।
গবেষকেরা জানান, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়া বা প্লাটিলেটের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার মতো রক্ত পরীক্ষার ফলাফল ক্যানসারের ঝুঁকির ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে শুধু কোনো একটি পরীক্ষার ফলাফল অস্বাভাবিক কি না, তা দেখাই যথেষ্ট নয়। একই রোগীর একাধিক পরীক্ষায় সময়ের সঙ্গে ফলাফল কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণায় ২ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার রোগীর পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে ক্যানসার শনাক্ত হয়। গবেষকেরা একবারের রক্ত পরীক্ষায় পাওয়া অস্বাভাবিকতা এবং ধারাবাহিক পরীক্ষায় দেখা পরিবর্তনের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেন।
গবেষণায় মোট ২৬ ধরনের রক্ত পরীক্ষার পরিবর্তনের সঙ্গে ক্যানসারের সামগ্রিক ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কিছু রক্ত পরীক্ষার পরিবর্তন নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসারের সঙ্গেও সম্পর্কিত ছিল।
গবেষকেরা জানান, বয়স ও লিঙ্গের প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার পর একবারের অস্বাভাবিক ফলাফলের তুলনায় সময়ের সঙ্গে রক্ত পরীক্ষার ফলাফলে পরিবর্তনের ধরন ক্যানসার শনাক্তকরণে বেশি কার্যকর বলে দেখা গেছে।
তবে গবেষণাটির ফলাফল ক্যানসার নির্ণয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষা নয়। গবেষকদের মতে, অকারণে ওজন কমার মতো উপসর্গের সঙ্গে রক্ত পরীক্ষার বিভিন্ন পরিবর্তন একসঙ্গে মূল্যায়ন করলে চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা পেতে পারেন।
জি বাংলা ডেস্ক